![]() |
| প্রতীকী ছবি |
অপরিচিত ধর্মের আলোকে সিরিজের আজকের
পর্বে থাকছে সাবিয়ান ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে লেখা। সাবিয়ান আসলে কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম
নয় এবং তাদের কোনো ধর্মগ্রন্থও নেই। এটি আসলে পৌত্তলিকতা, যা ধর্ম ও নবী রাসুলগনের
বাইরে সামাজিকভাবে প্রচলিত একটি বিশ্বাস। চলুন জেনে নেয়া যাক সাবিয়ানদের সম্পর্কে।
উৎপত্তি ও ইতিহাস
সাবিয়ান (Sabians) বা সাবি’উন হলো এক রহস্যময় ধর্মীয় গোষ্ঠী, যাদের নাম কুরআনেও
(সূরা আল-বাকারা ২:৬২, সূরা আল-মায়েদা ৫:৬৯, সূরা আল-হজ্জ ২২:১৭) উল্লেখ রয়েছে। তবে
ইতিহাসবিদদের মধ্যে এ নিয়ে মতভেদ আছে—
(১) কেউ মনে করেন এরা প্রাচীন মান্দাই ধর্মের অনুসারী।
(২) কেউ বলেন তারা ছিল তারামণ্ডল পূজারী (Star-worshippers),
যারা বিশেষত হারান অঞ্চলে বাস করত।
(৩) আবার অনেক গবেষকের মতে, সাবিয়ানরা আসলে এক ধরনের আব্রাহামীয়
সংখ্যালঘু গোষ্ঠী, যারা ইহুদি-খ্রিষ্টান-মান্দাই মিশ্রিত বিশ্বাস পোষণ করত।
সুতরাং সাবিয়ানরা
ইতিহাসে এক ধোঁয়াশাপূর্ণ সম্প্রদায়, যাদের সঠিক পরিচয় আজও স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা
যায়নি।
ধর্মগ্রন্থ ও বিশ্বাস
সাবিয়ানদের
কোনো নির্দিষ্ট ধর্মগ্রন্থ আজ পাওয়া যায় না। তবে ধারণা করা হয়—
(১) তারা এক সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী ছিল।
(২) একই সঙ্গে তারা গ্রহ-নক্ষত্র ও মহাজাগতিক শক্তিকে ঈশ্বরীয়
প্রতীক হিসেবে মানতো।
(৩) তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান মূলতঃ জ্যোতির্বিদ্যা ও মহাজাগতিক
নিয়ম ঘিরে গড়ে উঠেছিল।
উপাসনা ও ধর্মীয় প্রথা
(১) সাবিয়ানরা বিশেষত চাঁদ, সূর্য ও নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে
উপাসনা করতো।
(২) তারা রোজা রাখতো, নামাজের মতো নির্দিষ্ট সময়ের প্রার্থনা করতো।
(৩) ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, সাবিয়ানরা প্রতিদিন কয়েকবার উদীয়মান
ও অস্তগামী সূর্যের দিকে মুখ করে প্রার্থনা করতো।
বর্তমান অবস্থা
বর্তমানে সংগঠিতভাবে
কোনো সাবিয়ান সম্প্রদায় নেই। তবে অনেক গবেষক মনে করেন, ইরাক ও ইরানে থাকা কিছু মান্দাই
সম্প্রদায় মূলত প্রাচীন সাবিয়ানদের উত্তরসূরি।
কুরআনে উল্লেখ থাকায় মুসলিম শাসকগোষ্ঠীর অধীনে তারা “আহলে কিতাব” মর্যাদা পে্তো,
অর্থাৎ তারা ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের মতোই বিশেষ সুরক্ষা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করত।
প্রভাব ও উত্তরাধিকার
(১) সাবিয়ানদের জ্যোতির্বিদ্যা ও জ্যোতিষশাস্ত্র পরবর্তীতে ইসলামি
বিজ্ঞান ও গ্রিক দর্শনের অনুবাদ আন্দোলনে প্রভাব ফেলে।
(২) তাদেরকে ঘিরে অনেক কিংবদন্তি ও ঐতিহাসিক রহস্য তৈরি হয়েছে,
যা আজও গবেষকদের আলোচনার বিষয়।
(৩) ইসলামের ইতিহাসে তাদের উল্লেখ থাকার কারণে সাবিয়ানরা এক বিশেষ
ধর্মীয় পরিচয়ের অংশ হয়ে আছে।
পূর্ববর্তী পর্বঃ অপরিচিত ধর্মের আলোকে – পর্ব ৩: ইব্রাহিমীয় ধর্মসমূহ (দ্রুজ ধর্ম)









Leave a Reply